আশ্রয়ণ প্রকল্প: অবশেষে পরিদর্শনে মাঠে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টিম

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ক-শ্রেণি পরিবারের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা একক গৃহ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল।

নতুন খবর হচ্ছে, করো’না মহামা’রির কঠোর ‘বিধি-নিষেধ’ এর মধ্যেও দেশব্যাপী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পরিদর্শনে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক টিম।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সারা দেশের বিভিন্ন জে’লা-উপজে’লাকে ভাগ করে পরিদর্শন শুরু করবে পাঁচটি টিম।

পরিদর্শনকারী টিমগুলোকে বিভিন্ন জে’লা-উপজে’লায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান ,অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের পাঁচটি টিমের একটিতে নেতৃত্ব দেবেন আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন নিজেই।

ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জে’লা-উপজে’লায় নির্মিত ঘরগুলো পরিদর্শন করবে এসব টিম।

যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে বাংলানিউজকে জানান আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রতিটি কেসই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জ’ড়িত। এজন্যই এরকম একটি মহামা’রি পরিস্থিতির মধ্যেও আম’রা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিদর্শনে নামছি।

মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প। এ প্রকল্পের অনিয়ম বা গাফলতি নিয়ে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স।

ইতোমধ্যে যেসব জায়গা থেকে অ’ভিযোগ এসেছে সেসব জায়গায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। একই সঙ্গে আম’রা যেসব বাড়ি নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি সেসব বাড়ি সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণে যা যা প্রয়োজন সব কিছু করে দেবো।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় অ’তিবৃষ্টি, ব’ন্যা ও প্রাকৃতিক দু’র্যোগে কিছু কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আম’রা সেসব জায়গায় পুনরায় বাড়ি নির্মাণ অথবা সংস্কার করে দিচ্ছি।

তবে এই মানবিক প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট’কে বিতর্কিত করতে একটি সংঘবদ্ধ মহল এটা নিয়ে অ’পপ্রচারে লিপ্ত আছে যেটি কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর আস্থা রাখু’ন। ভূমিহীন-গৃহহীন সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

অ’তিবৃষ্টি, ব’ন্যাসহ প্রাকৃতিক দু’র্যোগে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণের কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া নির্মাণে ত্রুটির কারণেও বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি নির্মাণে ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসতেই নড়ে চড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তারা। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে অনিয়ম, অবহেলা ও অর্থ আত্মসাতকারীদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে। অ’ভিযোগ ত’দন্ত করে অনিয়মকারীদের বি’রুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মক’র্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহম’দ কায়কাউস বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্লোগান হলো- ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। এর সঙ্গে আমাদের সবার আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতি, অনিয়ম, দু’র্নীতি ও শৈথিল্যের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে শা’স্তি পেতেই হবে। কাউকেই বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*